জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন বণ্টন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জোটভুক্ত প্রতিটি দলের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক চলছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা ২০ জানুয়ারি শেষ হওয়ার আগেই সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
গত কয়েক মাস ধরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রথমে আট দল সমঝোতায় আসে। এগুলো হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত হয়ে জোটে মোট ১১ দল হয়।
আলোচনা চলাকালীন বিভিন্ন দল প্রাথমিক মনোনয়নপত্র জমা দেয়। জামায়াত ২৭৬টি আসনে, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে, এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন করে। সমঝোতা হলে এক আসনে জোটের একজন প্রার্থী রেখে বাকিদের প্রত্যাহার করা হবে।
সর্বশেষ প্রস্তাবনা অনুযায়ী জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য সংরক্ষণ করছে। ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি আসন দেওয়ার সমঝোতা হয়েছে, যদিও তারা আরও কয়েকটি দাবি করছে। গত কয়েক দিনে জামায়াতের সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শক্তিশালী প্রার্থী থাকা আসনে জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা যাচাই করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও আসন ছাড় দেওয়া সম্ভব। এনসিপিকে ৩০টি আসন নিশ্চিত। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, জোটে তারা কত আসন পাচ্ছেন তা দু–এক দিনের মধ্যে জানানো হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫–৩০টি আসন চায়। সর্বশেষ বৈঠকে ১৩টি আসনের আলোচনা হয়েছে, কিন্তু শেষে ১৫টি পেতে পারে। দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ শনিবার সকালে বলেন, আলোচনা অনেকখানি এগিয়েছে, আসনসংখ্যা বেড়েছে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে চূড়ান্ত হতে পারে। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে সমঝোতা না হওয়া আসনে প্রার্থী না সরানোর নীতিতে তারা অটল। খেলাফত মজলিসকে ৭টি আসন, আলোচনায় আরও দু–একটি বাড়তে পারে। দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ হবিগঞ্জ–২ এবং মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ–৪ আসনে প্রার্থী।
এলডিপিকে ৭টি আসনের প্রস্তাব রয়েছে, যদিও কিছু সূত্র ৪টি বলছে, আলোচনা চলছে। এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রার্থী নন, তাঁর ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী। এবি পার্টি দশের বেশি দাবি করলেও প্রাথমিকভাবে ২টি, এখন ৩টিতে সমঝোতা। এর মধ্যে চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী–২, সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) বরিশাল-৩ এবং জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার পটুয়াখালী–১ আসনে প্রার্থী। পটুয়াখালী–১ এ জামায়াতের মো. নাজমুল আহসান প্রত্যাহার করতে পারেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান গতকাল রাতে বলেন, জোটগত সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, কমন নীতিমালা ও ঐকমত্যের অভাব রয়েছে, তিন আসনে আপত্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে, সার্বিক অস্পষ্টতা আশাব্যঞ্জক নয়।
বিডিপিকে ২টি আসন। চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ময়মনসিংহ-৯ এবং মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম ভোলা-৩ আসনে প্রার্থী। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বড় দলগুলোর সমঝোতা চূড়ান্ত হলে এরা প্রতিটি ১-২টি আসন পাবে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ওমরাহ পালন শেষে শনিবার সকালে দেশে ফিরেছেন। চূড়ান্ত সমঝোতায় তাঁর নেতৃত্বে অন্য দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সবার সুবিধাজনক সময় না পাওয়ায় একসঙ্গে বৈঠক সম্ভব হচ্ছে না, তবে অল্পদিনের মধ্যে হবে এবং তারপর আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।